পরিবর্তনে বৈচিত্র্য

পরিবর্তন। সৃষ্টির এক আশ্চর্য রূপ। প্রয়োজন মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস। প্রাপ্তির আনন্দ। সফলতা। এ ধাপগুলো অতিক্রম করেই একজন ব্যক্তি সফল। যদিও সফলতা সহজ বিষয় নয়। এসব কিছু ছাপিয়ে আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ড. মিহির কান্তি মজুমদার। ড. মিহির কান্তি মজুমদার শুধু নাম নয়, একটি প্রতিষ্ঠান।

ড. মিহির কান্তি মজুমদার আগস্ট ২৮, ২০১৭ সালে উদ্দীপন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উদ্দীপন-এর ক্রান্তিলগ্নে তিনি এ সংস্থার হাল ধরেন। মেধা ও দক্ষতার সঙ্গে তিনি এ সংস্থাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। উদ্দীপন সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নারী, পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জনে কাজ করে আসছে। ধারাবাহিকভাবে তিনি এসব সূচকের অগ্রগতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। উদ্দীপন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা। এ ধরনের সেবামূলক কর্মকান্ডেরে পাশাপাশি উদ্দীপনের আরও কয়েকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। উদ্দীপন হেলথ কেয়ার, উদ্দীপন-প্রফস্ হারবাল প্রজেক্ট ও ভাকুর্তায় নিজস্ব স্থাপনায় শাখা সম্প্রসারণ এবং ভকেশনাল ও কারিগরি ইনস্টিটিউট এসবই তিনি সফলতার সাথে এগিয়ে নিচ্ছেন। বিচক্ষণতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ যা প্রশংসার দাবি রাখে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় বরেণ্য ব্যক্তিগণের জন্মস্থান। এসব উপজেলায় উদ্দীপনের ২৪টি শাখার নাম পরিবর্তন করে বরেণ্য ব্যক্তিদের নামে রাখা হয়। এ নামকরণের প্রস্তাবক ড. মিহির কান্তি মজুদার। কারণ এসব বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম ও জন্মস্থান দেশের মানুষ এক প্রকার ভুলতেই বসেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁদের সম্পর্কে জানা ও স্মৃতিকে অম্লান রাখা এটাই তার একমাত্র প্রচেষ্টা।

এরপর তিনি পরিচালনা পর্ষদের ১৬৯তম সভায় (অক্টোবর ০৬, ২০১৯) এ বিষয়ে উপস্থাপন করেন যা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয়া হয়।

ক্রমিক শাখার বর্তমান নাম পরিবর্তিত নাম

১. বাবুগঞ্জ শাখা, বরিশাল বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শাখা, বাবুগঞ্জ, বরিশাল

২. সোনাইমুড়ী শাখা, নোয়াখালী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন শাখা, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী

৩. মধুখালী শাখা, ফরিদপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মুন্সী আব্দুর রউফ শাখা, মধুখালী, ফরিদপুর

৪. কেশবপুর শাখা, যশোর মাইকেল মধুসূদন শাখা, কেশবপুর, যশোর

৫. পটিয়াশাখা, চট্টগ্রাম বীরকন্যা প্রীতিলতা শাখা, পটিয়া, চট্টগ্রাম

৬. বেলকুচি শাখা, সিরাজগঞ্জ কবি রজনীকান্ত সেনশাখা, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ

৭. কুষ্টিয়া সদর শাখা, কুষ্টিয়া ফকির লালনশাহ শাখা, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া

৮. ফরিদপুর সদর শাখা, ফরিদপুর পল্লীকবি জসীম উদ্দীন শাখা, ফরিদপুর সদর, ফরিদপুর

৯. বৈরাগীগঞ্জ শাখা, মিঠাপুকুর, রংপুর বেগম রোকেয়া শাখা, পায়রাবন্দর, রংপুর

১০. বানারীপাড়া শাখা, বরিশাল শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক শাখা, বানারীপাড়া, বরিশাল

১১. বরিশাল সদর শাখা, বরিশাল কবি জীবনানন্দ দাশ শাখা, বরিশাল সদর, বরিশাল

১২. কোটালীপাড়া শাখা, গোপালগঞ্জ কবি সুকান্ত শাখা, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ

১৩. রাউজান শাখা, চট্টগ্রাম মাষ্টারদা সূর্য সেন শাখা, রাউজান, চট্টগ্রাম

১৪. দাগনভঁ‚ইয়া শাখা, ফেনী ভাষা শহীদ আবদুস সালাম শাখা, দাগনভঁ‚ইয়া, ফেনী

১৫. সোনাপুর শাখা, নোয়াখালী সার্জেন্ট জহুরুল হক শাখা, সোনাপুর, নোয়াখালী

১৬. সোনাগাজী শাখা, ফেনী শহীদ জহির রায়হান শাখা, সোনাগাজী, নোয়াখালী

১৭. চাটখিল শাখা, নোয়াখালী শহীদ মুনীর চৌধুরীশাখা, চাটখিল, নোয়াখালী

১৮. চাঁদগাঁও শাখা, চট্টগ্রাম বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী শাখা, চাঁদগাঁও, চট্টগ্রাম

১৯. কোতোয়ালী শাখা, চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত শাখা, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম

২০. জালালাবাদ শাখা, চট্টগ্রাম হযরত বায়েজিদ বোস্তামী শাখা, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

২১. বাগেরহাট শাখা, বাগেরহাট হযরত খানজাহান আলী শাখা, বাগেরহাট সদর, বাগেরহাট

২২. শাহজাদপুর শাখা, সিরাজগঞ্জ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাখা, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ

২৩. টাঙ্গাইল সদর শাখা, টাঙ্গাইল মওলানা ভাসানী শাখা, টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল

২৪. লালখানবাজার শাখা, চট্টগ্রাম হযরত গরীবুল্লাহশাহ শাখা, লালখানবাজার, চট্টগ্রাম

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য উদ্দীপন-এর প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সকল কর্মীদের জন্য হোয়াট্স অ্যাপ গ্রুপে Ivermectin I Doxycycline/azithromycin মেডিসিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এটি সকল স্তরের কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এ নিয়ে ‘করোনা আতঙ্ক : প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও প্রতিকার’ বিষয়ক এক আর্টিকেলও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ সচেতনতা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে ‘ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও পুষ্টিবৃক্ষ সজনে’ বিষয়ক আরো একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। এর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে উদ্দীপন-এর সকল শাখা পর্যায়ে সজনেসহ বিভিন্ন ঔষধি চারা গাছ লাগানো হচ্ছে।

পরিবেশবাদী ড. মিহির কান্তি মজুমদার। প্রকৃতি ও পরিবেশের পরম বন্ধু। প্রকৃতি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকৃতিপূজারী এই নির্মল মানুষটির কথা অনেকেই জানেন না। পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে তিনি নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। ড. মিহির কান্তি মজুমদার শুধু প্রকৃতি প্রেমেই নয়, দূষণমুক্ত পরিবেশ সংক্রান্ত চিন্তাভাবনায়ও অগ্রগামী। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ এবং ‘চ্যানেল আই’-এর পক্ষ থেকে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ২০১৮’ প্রদান করেছে।

ড. মিহির কান্তি মজুমদার শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৮১ সালে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেন। চাকরি জীবনে তিনি উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ২৩ জানুয়ারি ২০১১ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ১৩ মে ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে মেহের মুসুলি বৃক্ষরোপণ ট্রাস্টসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি গণমুখী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও কর্মকৌশল-২০০৯, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন-২০১২ এবং জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা-২০১০ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া তিনি বাঘ, হাতি ও কুমিরের মাধ্যমে মানুষের জীবনহানির ক্ষতিপূরণ এবং শকুন সংরক্ষণে ডাইক্লোফেনাক ওষুধ নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। শুধু তাই নয়, তিনি ‘উন্নয়ন ও সংস্কার প্রস্তাবনা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ নামক একটি বইয়ের রচয়িতা। বর্তমানে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন ড. মিহির কান্তি মজুমদার।

‘কর্মই ধর্ম’ এই প্রবাদ বাক্যটিই যেন তার জীবনের সাথে মিশে গেছে। এ ব্রতকে জীবনের চলার পথের পাথেয় করেছেন তিনি। সততা ও নির্ভীক চিত্তে কাজ করে চলেছেন। তাই যে কোন সিদ্ধান্তে অনড় ও অবিচল। তার কর্মময় জীবন অনুপ্রেরণা জোগায় বাঁচার, উপলব্ধি করতে শেখায় বৈচিত্র্যকে।

লেখক : শ্যামা সরকার
সহকারী পরিচালক-১ ও প্রধান
কমিউনিকেশন, পাবলিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ
উদ্দীপন।