একজন আলোর দিশারী

একজন সৃষ্টিশীল মানুষ মননে ও চিন্তায় আধুনিক হবেন, অপবিশ্বাস ও অন্ধকারের অচলায়তন ভেঙে আলোর পথে চলবেন এটিই স্বাভাবিক। এ পথ পাড়ি দেয়া অনেকটাই কঠিন। কারণ মানুষের চিন্তা-চেতনার অগ্রসরতা ও উদারতার পেছনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পটভ‚মির প্রভাব থাকে। বয়স মাত্র এক বছর। একজন সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল ব্যক্তি। আচার-আচরণে দৃঢ় ও চিন্তায় ধীশক্তিসম্পন্ন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শোষণ, বৈষম্যহীন, দারিদ্র্য বিমোচন সর্বোপরি নারীদের অগ্রাধিকার বিষয়ে যিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন তিনি উদ্দীপনের নির্বাহী পরিচালক ও সিইও বিদ্যুত কুমার বসু। অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসবেনই…।

আগেই বলেছি, জন্ম মাত্র এক বছর। পেয়েছেন ৩৩৩টি শাখা। প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দিয়ে উদ্দীপনকে উপহার দিয়েছেন ৫০২তম শাখা। বছরে ১৬৯টি শাখা উপহার দেয়া আক্ষরিক অর্থে বন্ধুর। যা উদ্দীপনের জন্য ইতিহাস।উদ্দীপনে যুক্ত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিক‚লতার মাঝে নিজের অবস্থানকে করেছেন আরোও শক্তিশালী। এক মুহূর্তের জন্যও ভেঙে পড়েননি।

বরং মোকাবেলা করেছেন শক্ত হাতে। হয়ে উঠেছেন যোগ্য ‘লিডার’। নেতৃত্বগুণ পাহাড়সম। জয় করেছেন প্রায় ছয় লাখ মানুষের মন। উদ্দীপনের ভিশন, মিশন, কৌশল ও মূল্যবোধের আলোকে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন।

২৬ মার্চ ২০২০ স্বাধীনতা দিবস। তাই ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে অফিস শেষ করে যাওয়ার পরে আর আসা হলো না। কারণ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এতটাই ভয়াবহ যে, এটি থমকে দিয়েছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে মানবজাতি। মারা যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এর থেকে কবে মুক্তি মিলবে, কখন স্বাভাবিক হবে কর্মপরিবেশ এবং সর্বোপরি কবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসবে মানুষ। এসব দুশ্চিন্তাই ভর করছে খেটে খাওয়া মানুষের মনে। গোটা দেশ লক ডাউনে। সরকারি ঘোষণায় সকল অফিস-আদালত, ব্যাংক, পোশাক শিল্প কারখানা- সবই শুরু হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে। এতোকিছুর মধ্যে থেমে ছিল না উদ্দীপনের কার্যক্রম। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল কর্যক্রমই চলমান ছিল। সর্বোপরি মাঠপর্যায়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন। জোনাল, রিজিয়নাল ও শাখা অফিসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার জন্য বারবার সচেতন করার কাজটি একান্তভাবে করেছেন। লক ডাউনে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে, সকল পর্যায়ের কর্মীদের যেন কোন প্রকার নিত্য প্রযোজনয়ি পণ্য ক্রয়ে ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেজন্য তিনি পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কর্মীদের ব্যাংক হিসাবে বেতন/বোনাস দিয়েছেন। বৈশ্বিক এ মহামারীর মধ্যেও উদ্দীপনের জন্য একটি ইতিহাস ২০২০ সালে সকল পর্যায়ের কর্মীদের পদোন্নতি। যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মানবিক বলে বিবেচিত হয়েছে। যদিও শোনা গেছে, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা করোনাকালীন বেতন/বোনাস কম দেয়া হয়েছে। কর্মী ছাঁটাই-এর খবর পাওয়া গেছে। সবকিছু ছাপিয়ে উদ্দীপন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কর্মপিপাসুর আর এক নাম বিদ্যুত কুমার বসু। চিন্তা ও চেতনায় প্রযুক্তি, প্রগতি, যুক্তি এবং পরিবর্তন। এর মধ্য দিয়েই কর্মপরিকল্পনা পরিচালিত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কর্মে, ধ্যানে ও সৃষ্টিশীলতায় অগ্রগামী। যার স্বাক্ষর তিনি বহুবার রেখেছেন। গ্রামীণফোন, রবিসহ টেলিকম সেক্টরগুলোতে যেমনি অর্জন করেছেন সুনাম তেমনি রয়েছে অজস্র একনিষ্ঠ অনুসারী।

গুণে, মেধায়, যোগ্যতা এবং নেতৃত্বের দিক দিয়ে বিদ্যুত কুমার বসু উচ্চস্থানে আসীন। তার দৃঢ়চেতা মনোভাবই তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। নেতৃত্বদান এবং দ্রত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও দক্ষতাসম্পন্ন পরিচালনা পর্ষদের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য। চলার পথে এ ধরনের একটি পরিচালনা পর্ষদ পেয়েছেন, যাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ পান বলেই কাজের ক্ষেত্র আরো মসৃণ হয়েছে। কৃতজ্ঞতা পরিচালনা পর্ষদ।

লেখক : শ্যামা সরকার
সহকারী পরিচালক-১ ও প্রধান
কমিউনিকেশন, পাবলিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ
উদ্দীপন।